প্রাক-প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা

ইউরোপে শিক্ষাবর্ষপ্রতি বেতনের ব্যবধান গড়ে ৭ শতাংশ

ইউরোপের দেশগুলোয় নিম্ন বা মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাজীবনের ইতি টেনেছেন এমন ব্যক্তিদের তুলনায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রিধারীদের আয় অনেক বেশি।

ইউরোপের দেশগুলোয় নিম্ন বা মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাজীবনের ইতি টেনেছেন এমন ব্যক্তিদের তুলনায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রিধারীদের আয় অনেক বেশি। এক গবেষণায় দেখা গেছে, গড়ে এক বছর বেশি শিক্ষার অনুপাতে আয় বাড়ে প্রায় ৭ শতাংশ। খবর ইউরো নিউজ।

গবেষণায় উল্লেখিত নিম্ন পর্যায়ে শিক্ষায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক স্তর। মাধ্যমিক স্তরে রয়েছে উচ্চ মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক-পরবর্তী পেশাগত শিক্ষা বা প্রশিক্ষণ। অন্যদিকে উচ্চশিক্ষা পর্যায়ে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় বা সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন ডিগ্রি।

ইউরোস্ট্যাট ও ইউরোপীয় কমিশনের ‘ইনভেস্টিং ইন এডুকেশন ২০২৫’ শীর্ষক যৌথ প্রতিবেদন অনুসারে, ইইউ-ভুক্ত দেশে উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তিরা গড়ে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষিতদের চেয়ে ৩৮ শতাংশ ও নিম্ন শিক্ষিতদের চেয়ে ৬৮ শতাংশ বেশি উপার্জন করেন।

সেখানে বলা হচ্ছে, বছরপ্রতি পড়াশোনা করার ফলে একজন ব্যক্তির আয় বাড়ে প্রায় ৭ শতাংশ। ইউরোপের ৩৬টি দেশেই প্রায় সমানভাবে এ প্রবণতা লক্ষ করা গেছে।

ইউরোস্ট্যাটের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পরিবারের আকার অনুযায়ী, সমন্বিত মাথাপিছু মধ্যম বা গড় বার্ষিক নিট আয় ছিল ২১ হাজার ৬৪৪ ইউরো। নিট আয় বলতে বোঝায়, কর ও অন্যান্য ফি কর্তনের পর আয়ের যে অংশ থাকে, যা ব্যক্তিগত চাহিদা, বিনিয়োগ বা সঞ্চয়ে ব্যবহার করা যায়।

শিক্ষার প্রাতিষ্ঠানিক স্তর অনুযায়ী, নিম্ন মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন এমন ব্যক্তিদের বার্ষিক নিট আয় ১৭ হাজার ৫১৭ ইউরো। অন্যদিকে মাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষিতদের ক্ষেত্রে নিট আয় যথাক্রমে ২১ হাজার ৪০১ ও ২৯ হাজার ৪৯০ ইউরো।

তবে আয়ের এ ব্যবধান সব দেশে সমান নয়। ইইউতে উচ্চশিক্ষিত ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষিতদের মধ্যে আয়ের পার্থক্য সবচেয়ে কম আইসল্যান্ডে, মাত্র ৬ শতাংশ। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি তুরস্কে, ৬২ শতাংশ। ইইউর সদস্য দেশগুলোর মধ্যে অস্ট্রিয়ায় এ ব্যবধান ১৫ শতাংশ। তবে লিথুয়ানিয়ায় এ পার্থক্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৭ শতাংশে। অন্য অঞ্চলের তুলনায় পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপে আয়ের ব্যবধান বেশি। নরডিক দেশগুলোয় পার্থক্য সবচেয়ে কম এবং পশ্চিম ইউরোপে মাঝারি পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়ে থাকে।

তুরস্ক, লিথুয়ানিয়া, আলবেনিয়া, রোমানিয়া, বুলগেরিয়া ও মন্টেনিগ্রোয় বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রিধারীরা মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রাপ্তদের তুলনায় অন্তত ৪০ শতাংশ বেশি আয় করেন। অন্যদিকে নরডিক দেশগুলোয় পার্থক্য সীমিত। আইসল্যান্ডে ৬ শতাংশ, নরওয়েতে ৯, সুইডেনে ১৬, ডেনমার্কে ১৯ ও অস্ট্রিয়ায় ১৫ শতাংশ। ইউরোপের পাঁচটি বৃহৎ অর্থনীতিতে পার্থক্য মধ্যম মাত্রার। ইতালি ও জার্মানিতে ৩০ শতাংশ, যুক্তরাজ্যে ৩৩ শতাংশ এবং ফ্রান্স ও স্পেনে ৩৪ শতাংশ।

তবে উচ্চশিক্ষিত ও নিম্নশিক্ষিতদের মধ্যে আয় ব্যবধান তুলনামূলকভাবে বেশি। ইইউতে বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রিধারীরা নিম্নশিক্ষিতদের তুলনায় গড়ে ৬৮ শতাংশ বেশি আয় করেন। বুলগেরিয়ায় এ ব্যবধান ১৭৮ শতাংশ পর্যন্ত, তবে ডেনমার্কে ব্যবধান ২৯ শতাংশ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কর সুবিধা, শক্তিশালী শ্রমিক ইউনিয়ন ও সক্রিয় শ্রমবাজার নীতির কারণে নরডিক ও মধ্য ইউরোপের কিছু দেশে আয়ের এ ব্যবধান তুলনামূলক কম। জার্মানি, অস্ট্রিয়া ও সুইজারল্যান্ডে শক্তিশালী বৃত্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থার কারণে মাধ্যম স্তরের শিক্ষার্থীরাও ভালো আয়ের সুযোগ পান। ফলে স্নাতকদের সঙ্গে তাদের আয়-ব্যবধান সীমিত থাকে।

তবে তুলনামূলকভাবে নিম্ন আয়ের দেশগুলোয় শিক্ষাগ্রহণের অনুপাতে উপার্জনের ব্যবধান অনেক বেশি। আলবেনিয়া, উত্তর মেসিডোনিয়া ও তুরস্কের মতো দেশে উচ্চশিক্ষিতরা অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি আয় করেন। কারণ এসব দেশে ন্যূনতম মজুরি কম, সামাজিক নিরাপত্তা দুর্বল এবং উৎপাদনশীলতার ব্যবধান অনেক বেশি।

আরও